বিল গেটস এর জীবনী -যিনি বিশ্বের প্রযুক্তি জগতের কিংবদন্তি সফল উদ্যোক্তাদের একজন

বিশ্বের ডিজিটাল বিপ্লবের অগ্রদূত ও মানবকল্যাণের অনন্য প্রতীক বিল গেটস। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি ব্যক্তিগত কম্পিউটারকে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করেন। মাত্র ২০ বছর বয়সে গড়ে তোলা এই কোম্পানি তাকে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ কোটিপতিতে পরিণত করে। প্রযুক্তি জগতে একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পর তিনি নিজেকে উৎসর্গ করেন মানবসেবায়। বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও দারিদ্র্য বিমোচনে তার অবদান তাকে পরিণত করেছে আধুনিক যুগের একজন মহান সমাজহিতৈষীতে। উদ্ভাবনী চিন্তা, দূরদর্শী নেতৃত্ব ও অপরিমেয় মানবপ্রেমের অনন্য সমন্বয় এই মহান ব্যক্তিত্বের জীবনকে করেছে গতিশীল ও অনুকরণীয়। আজ আমরা বিল গেটস এর জীবনী সম্পর্কে জানব।

বিল গেটস এর জীবনী

শৈশব এবং পারিবারিক পটভূমি
বিল গেটসের পুরো নাম উইলিয়াম হেনরি গেটস তৃতীয়। তিনি ১৯৫৫ সালের ২৮ অক্টোবর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন রাজ্যের সিয়াটেল শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা উইলিয়াম এইচ. গেটস সিনিয়র একজন সফল আইনজীবী ছিলেন এবং মা মেরি ম্যাক্সওয়েল গেটস একজন সমাজসেবী ও শিক্ষা উৎসাহী। তিনি ছোটবেলা থেকেই খুবই কৌতূহলী এবং মেধাবী ছিলেন। মাত্র ১৩ বছর বয়সে তিনি কম্পিউটার ও প্রযুক্তির প্রতি গভীর আগ্রহ দেখাতে শুরু করেন। তার পরিবার সবসময় শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিতেন এবং তাকে নতুন কিছু শিখতে উৎসাহিত করতেন। গেটস বই পড়তে এবং জটিল সমস্যার সমাধান করতে ভালোবাসতেন। পরিবার ও শিক্ষকের সমর্থনে তার মেধা আরও বিকশিত হয়।

প্রাথমিক শিক্ষা এবং কম্পিউটারের প্রতি আগ্রহ
বিল গেটস লেকসাইড প্রিপারেটরি স্কুলে ভর্তি হন। এই স্কুলটি শিক্ষার মান এবং প্রযুক্তি সমৃদ্ধ পাঠক্রমের জন্য বিখ্যাত। সেখানেই তিনি প্রথমবার কম্পিউটার ব্যবহার করেন। ১৯৭০ সালে লেকসাইড স্কুলে একটি টিম তার প্রোগ্রামিং প্রতিভা আবিষ্কার করে। তিনি BASIC প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজে প্রোগ্রাম লিখতে শুরু করেন। কম্পিউটার ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি নতুন সফটওয়্যার তৈরি ও উন্নয়নে মনোযোগী হন। তার বন্ধু পল অ্যালেনও তখনই তার পাশে ছিলেন। গেটসের সেই সময় থেকেই প্রোগ্রামিং ও প্রযুক্তিতে দক্ষতা গড়ে ওঠে। স্কুলের প্রজেক্ট ও প্রতিযোগিতায় তিনি চমৎকার ফলাফল অর্জন করতেন।

হাইস্কুল জীবন এবং আগ্রহের বিকাশ
হাইস্কুলে পড়ার সময় বিল গেটস আরও উচ্চ পর্যায়ের প্রোগ্রামিং শেখেন। তিনি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন কম্পিউটার সিস্টেমে দক্ষ হয়ে ওঠেন। সেই সময় তার বন্ধুদের সঙ্গে মিনি প্রজেক্ট ও সফটওয়্যার তৈরি করতেন। তিনি বিভিন্ন প্রজেক্টে নেতৃত্বের ভূমিকা নিতেন। স্কুলের শিক্ষকরা তার প্রতিভা দেখে অবাক হত। গেটসের মধ্যে জ্ঞানার্জনের তৃষ্ণা এবং নতুন কিছু শেখার আকাঙ্ক্ষা ছিল অসাধারণ। হাইস্কুল জীবন তার ব্যবসায়িক এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতার প্রথম খসড়া তৈরি করে। সে সময়েই তিনি জানতেন যে ভবিষ্যতে প্রযুক্তি ও সফটওয়্যারের মাধ্যমে বড় কিছু করা সম্ভব। পরিবারও তার এই আগ্রহে তাকে প্রলুব্ধ করতে থাকে। হাইস্কুল জীবন তার কল্পনা, উদ্ভাবনী শক্তি ও পরিকল্পনার ভিত্তি গড়ে।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন এবং সিদ্ধান্ত
বিল গেটস ১৯৭৩ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখানে তিনি প্রোগ্রামিং ও গণিত নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। হার্ভার্ডে থাকাকালীন সময়ে তিনি নতুন প্রোগ্রাম তৈরি এবং সফটওয়্যার উন্নয়নে মনোনিবেশ করতেন। ১৯৭৫ সালে মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি হার্ভার্ড ছেড়ে দেন। এটি ছিল তার জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। পরিবার ও বন্ধুবান্ধব এই সিদ্ধান্তে উদ্বিগ্ন ছিলেন। কিন্তু গেটস জানতেন যে তার ভিসন বড়। তিনি প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন যে প্রযুক্তি বিশ্বের পরিবর্তন ঘটাতে পারে। হার্ভার্ডের ছোটবেলার শিক্ষা ও প্রতিভা তার ব্যবসায়িক ধারনা গড়ে তুলতে সাহায্য করেছিল। তার সিদ্ধান্তে দেখা যায় তার সাহস ও ভবিষ্যৎ চিন্তার পরিচয়।

মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠা
বিল গেটস ও পল অ্যালেন ১৯৭৫ সালে মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠা করেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল পার্সোনাল কম্পিউটারের জন্য সফটওয়্যার তৈরি করা। প্রথমে তারা BASIC ইন্টারপ্রেটার বিক্রি করতেন। মাইক্রোসফট দ্রুত সফটওয়্যার বাজারে পরিচিতি লাভ করে। গেটসের ব্যবসায়িক কৌশল এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা কোম্পানিকে সফল করে তোলে। ১৯৮০-এর দশকে মাইক্রোসফটের MS-DOS অপারেটিং সিস্টেম বাজারে বিপ্লব সৃষ্টি করে। গেটস কেবল প্রোগ্রামারই নন, তিনি একজন উদ্ভাবক ও নেতা ছিলেন। মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই তিনি কঠোর পরিশ্রম ও পরিকল্পনার মাধ্যমে কোম্পানিকে এগিয়ে নিয়ে যান। মাইক্রোসফট তার নেতৃত্বে বিশ্বের সেরা সফটওয়্যার কোম্পানি হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

পণ্য ও উদ্ভাবন
তিনি মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ১৯৮৫ সালে বাজারে আনে। এটি ব্যবহারকারীদের জন্য সহজ ইন্টারফেস প্রদান করে। বিল গেটস সফটওয়্যারের উন্নয়নে নতুন ধারণা এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তি প্রয়োগ করতেন। তিনি গ্রাফিকাল ইউজার ইন্টারফেস (GUI) প্রবর্তনের মাধ্যমে কম্পিউটার ব্যবহারকে সহজতর করেন। তার নেতৃত্বে মাইক্রোসফট অফিস এবং অন্যান্য পণ্যও তৈরি হয়। এই পণ্যগুলি ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক ব্যবহারে বিপ্লব ঘটায়। গেটস সবসময় ব্যবহারকারীর সুবিধা ও বাজারের চাহিদা মাথায় রাখতেন। তার উদ্ভাবনী ধারণা প্রযুক্তি শিল্পকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। প্রতিটি সফটওয়্যারের পেছনে তার বিস্তারিত পরিকল্পনা ও দৃষ্টিভঙ্গি কাজ করত। গেটসের দৃষ্টি ছিল প্রযুক্তিকে মানুষের জীবনকে সহজ করার দিকে নিয়ে যাওয়া।

ব্যবসায়িক দক্ষতা এবং নেতৃত্ব
বিল গেটস কেবল প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ নন, তিনি একজন অসাধারণ ব্যবসায়ীও। তার ব্যবসায়িক কৌশল কোম্পানিকে দ্রুত বৃদ্ধি করতে সাহায্য করেছে। তিনি বাজার বিশ্লেষণ, প্রতিযোগী মূল্যায়ন এবং দিকনির্দেশনা নির্ধারণে পারদর্শী। গেটসের নেতৃত্বে মাইক্রোসফটের কর্মীরা উদ্ভাবনী মনোভাব বজায় রাখে। তিনি সবসময় নতুন ধারণাকে উৎসাহিত করতেন। তার কঠোর পরিশ্রম এবং নিয়মিত মনিটরিং কোম্পানির সাফল্যের অন্যতম মূল চাবিকাঠি। গেটস ব্যবসায়িক ঝুঁকি নিতেও পিছপা হতেন না। তিনি প্রযুক্তি ও বাজারের মধ্যে সঠিক সমন্বয় সাধন করতেন। তার নেতৃত্বের ধরনে মাইক্রোসফট সারা বিশ্বে একটি স্থায়ী ব্র্যান্ডে পরিণত হয়।

সম্মান ও পরিচিতি
বিল গেটস বিশ্বের অন্যতম ধনকুবের ব্যক্তি। ১৯৯৫ সালে তিনি বিশ্বের ধনী মানুষদের তালিকায় শীর্ষে আসেন। তার সম্পদের পরিমাণ কোটি কোটি ডলারে পরিমাপ করা হয়। তিনি ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি গণমাধ্যমে পরিচিত হন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মাননা এবং পুরস্কার তার অবদানের স্বীকৃতি। গেটসের নাম প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়। তিনি কম্পিউটার বিপ্লবের অন্যতম নায়ক হিসেবে বিবেচিত। তার সম্পদ ও পরিচিতি সামাজিক প্রভাব ও দাতব্য কার্যক্রমেও ব্যবহৃত হয়। গেটস কেবল ধনুকেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, তিনি মানবকল্যাণের জন্যও উদ্যোগ নিয়েছেন।

দাতব্য কার্যক্রমের শুরু
বিল গেটস ২০০০ সালের দিকে মাইক্রোসফটের দৈনিক কার্যক্রম থেকে কিছুটা অবসর নেন। তিনি সম্পূর্ণ মনোযোগ দান করতে শুরু করেন গেটস ফাউন্ডেশনকে। এই প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও দারিদ্র্য নিবারণে কাজ করে। বিল ও তার স্ত্রী মেলিন্ডা গেটস সমন্বিতভাবে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থায়ন করেন। তাদের লক্ষ্য ছিল প্রযুক্তি ও উন্নত ধারণার মাধ্যমে সমাজের পরিবর্তন আনা। গেটস দাতব্য কার্যক্রমকে ব্যক্তিগত মিশন হিসেবে গ্রহণ করেন। ফাউন্ডেশন শিশু স্বাস্থ্য, টিকা, পুষ্টি ও শিক্ষা উন্নয়নে বিশেষভাবে কাজ করে। তিনি বিশ্বাস করেন যে ধন-সম্পদ শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং সামাজিক উন্নয়নে ব্যয় করা উচিত। তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা প্রকল্পে অর্থ সহায়তা প্রদান করেন।

শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে অবদান
বিল গেটস শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে বিশাল অবদান রেখেছেন। তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং প্রযুক্তি সংস্থার সাথে সহযোগিতা করেছেন। শিক্ষার্থীদের জন্য কম্পিউটার ও সফটওয়্যারের ব্যবহার প্রসারের দিকে মনোযোগী ছিলেন। তার উদ্যোগে শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং ডিজিটাল শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি পায়। গেটস প্রযুক্তি ব্যবহার করে সমস্যার সমাধানের নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবনে বিশ্বাসী। তিনি শিক্ষার ক্ষেত্রে উদ্ভাবনী ধারণা প্রচার করতে স্বতঃস্ফূর্ত। তার দৃষ্টিভঙ্গি ছিল যে প্রযুক্তি ও জ্ঞান মানুষের জীবন পরিবর্তন করতে পারে। শিক্ষায় তার অবদান বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত। তার শিক্ষা ও প্রযুক্তি সম্পর্কিত চিন্তাভাবনা নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে।

অন্যান্য দাতব্য কার্যক্রম

বিল গেটস ওয়ারেন বাফেটের সাথে “দ্য গিভিং প্লেজ” প্রচারাভিযান শুরু করেন যা বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের তাদের সম্পদের অর্ধেক দাতব্য কাজে ব্যয় করতে উৎসাহিত করে। তিনি নিজেও এই অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে তার ৯৫% সম্পদ দান করার ঘোষণা দিয়েছেন। গেটস বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং স্বাস্থ্য সংস্থাকে অর্থায়ন করে আসছেন। তিনি জলবায়ু পরিবর্তন রোধ এবং পরিবেশ সুরক্ষার জন্যও কাজ করছেন। তার দাতব্য কার্যক্রম শুধু অর্থদানেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তিনি সরাসরি বিভিন্ন প্রকল্পে জড়িত থেকে তার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগাচ্ছেন। তিনি নিয়মিতভাবে তার ব্লগ “Gates Notes”-এ বিশ্ব সমস্যা নিয়ে তার চিন্তাভাবনা শেয়ার করেন।

লেখক হিসেবে বিল গেটস

বিল গেটস একজন accomplished লেখকও বটে। তিনি তার তিনটি বই – “দ্য রোড অ্যাহেড” (১৯৯৫), “বিজনেস @ দ্য স্পিড অব থট” (১৯৯৯) এবং “হাউ টু অ্যাভয়েড এ ক্লাইমেট ডিজাস্টার” (২০২১) এর মাধ্যমে তার চিন্তাভাবনা বিশ্ববাসীর সাথে শেয়ার করেছেন। তার বইগুলো বিশ্বজুড়ে বেস্টসেলার হয়েছে এবং বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। তিনি তার ব্লগ “Gates Notes”-এ নিয়মিত বই রিভিউ, প্রযুক্তি বিষয়ক নিবন্ধ এবং বিশ্ব সমস্যা নিয়ে তার মতামত প্রকাশ করেন। তার লেখনী শৈলী খুবই সহজবোধ্য এবং প্রাঞ্জল যা সাধারণ readers থেকে বিশেষজ্ঞ সবার কাছেই গ্রহণযোগ্য। তিনি জটিল বিষয়গুলোকে এমনভাবে উপস্থাপন করেন যা সবার বোধগম্য হয়।

বই পড়ার অভ্যাস

বিল গেটস তার সাফল্যের পেছনে কিছু বিশেষ অভ্যাসকে দায়ী করেন যা তিনি বছরের পর বছর ধরে চর্চা করে আসছেন। তিনি একজন avid পাঠক এবং বছরে প্রায় ৫০টি বই পড়েন। তিনি নিয়মিতভাবে তার চিন্তাভাবনা লিপিবদ্ধ করেন এবং সময় management এর উপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে পর্যাপ্ত ঘুম productivity এর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সাধারণ খাবার খেতে পছন্দ করেন এবং বিলাসিতা এড়িয়ে চলেন যদিও তার একটি বড় বাড়ি আছে। তিনি তার সন্তানদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখেন এবং তাদেরকে বই পড়তে উৎসাহিত করেন। তিনি নিয়মিত ব্যায়াম করেন এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করতে চেষ্টা করেন।

বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব

বিল গেটসের তৈরি মাইক্রোসফট কোম্পানি বিশ্ব অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব বিস্তার করেছে। এই কোম্পানি লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে এবং সম্পূর্ণ নতুন একটি শিল্পের বিকাশে ভূমিকা রেখেছে। তার উদ্ভাবিত প্রযুক্তি বিশ্বব্যাপী productivity বৃদ্ধি করেছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপ্লব এনেছে। তিনি বিশ্বের central banks এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে নিয়মিত পরামর্শ করেন। তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বিশ্ব ব্যাংক এবং জাতিসংঘের মতো সংস্থাগুলোর সাথে partnership গড়ে তুলেছেন। তার দাতব্য কার্যক্রম বিশ্ব অর্থনীতিতে indirectভাবে positive প্রভাব ফেলেছে বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে।

ব্যক্তিগত জীবন
১৯৯৪ সালের ১ জানুয়ারি বিল গেটস মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চকে বিয়ে করেন। যিনি মাইক্রোসফটের একজন প্রোডাক্ট ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন। তাদের তিনটি সন্তান রয়েছে- জেনিফার, রোরি ও ফোবি। তিনি নিজের সময় ভাগ করে পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবন বজায় রাখেন। তিনি প্রিয় সময় কাটানোর জন্য বই পড়া এবং ভ্রমণ পছন্দ করেন। পরিবারিক মূল্যবোধ তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তার সন্তানদের শিক্ষায়ও তিনি বিশেষ মনোযোগ দেন। মেলিন্ডা ও বিল একসাথে বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন যা বিশ্বের সবচেয়ে বড় বেসরকারি দাতব্য সংস্থা। ২০২১ সালে মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চের সাথে বিবাহবিচ্ছেদের ঘোষণা দিলেও তারা একসাথে ফাউন্ডেশনের কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

প্রভাব এবং প্রতিপাদ্য
বিল গেটসের জীবন বিশ্বব্যাপী প্রভাব বিস্তার করেছে। প্রযুক্তি, ব্যবসা ও দাতব্য কর্মকাণ্ডে তার উদ্ভাবনী দৃষ্টিভঙ্গি প্রশংসিত। তিনি নতুন প্রজন্মকে উদ্ভাবনী এবং সৃজনশীল হওয়ার অনুপ্রেরণা দেন। গেটস প্রমাণ করেছেন যে সঠিক পরিকল্পনা ও ধৈর্য নিয়ে মানুষ বিশ্ব পরিবর্তন করতে পারে। তার প্রতিপাদ্য ছিল জ্ঞান, উদ্ভাবনী শক্তি এবং সমাজের কল্যাণ। গেটস বিশ্বকে দেখিয়েছেন কিভাবে প্রযুক্তি ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি একসাথে কাজ করতে পারে। তার জীবন ও কর্মের মাধ্যমে অনেক মানুষ শিক্ষিত ও অনুপ্রাণিত হয়েছে। গেটসের প্রভাব শুধু ব্যবসায় নয়, বরং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক। বিশ্ব তাকে উদ্ভাবক, নেতা ও দাতারূপে চেনে।

সম্মাননা ও পুরস্কার

তার অসামান্য অবদানের জন্য বিল গেটস numerous পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। ২০০২ সালে তাকে এবং তার wife মেলিন্ডা ফাউন্ডেশনের কাজের জন্য প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অফ ফ্রিডম প্রদান করা হয়। ২০০৫ সালে টাইম ম্যাগাজিন তাকে “পার্সন অফ দ্য ইয়ার” হিসেবে নির্বাচিত করে। তিনি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেছেন। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের নাইট কমান্ডার উপাধিতে ভূষিত হওয়া সত্ত্বেও তিনি “স্যার” উপাধি ব্যবহার করেন না কারণ তিনি মার্কিন নাগরিক। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানদের সাথে নিয়মিত বৈঠক করেন এবং বিশ্ব সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন। তার কাজ শুধু প্রযুক্তি ক্ষেত্রেই নয়, মানবকল্যাণের জন্য সারাবিশ্বেই স্বীকৃত।

See also

এম এস ওয়ার্ড এর প্রয়োজনীয় কিবোর্ড শর্টকাট

মাইক্রোসফট এক্সেল এর সূত্র শিখুন- নতুনদের জন্য প্রয়োজনীয় গাইডলাইন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে অজানা ২০টি আশ্চার্যজনক তথ্য – যা আপনাকে হতবাক কর

বিল গেটস এর জীবনী বিল গেটস এর জীবনী বিল গেটস এর জীবনী

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top