শীতে ত্বকের যত্নে যেসব উপাদান এড়িয়ে চলবেন

শীতকালে ত্বক সহজেই শুষ্ক, খসখসে এবং সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। ঠান্ডা বাতাস ও কম আর্দ্রতা ত্বকের প্রাকৃতিক তেল কমিয়ে দেয়। এই সময়ে ভুল পণ্য ব্যবহারে ত্বক আরও রুক্ষ ও ফাটলযুক্ত হতে পারে। বিশেষভাবে কিছু রাসায়নিক ও শক্তিশালী উপাদান ত্বকের আর্দ্রতা নষ্ট করে। তাই শীতকালে পণ্য নির্বাচনে সতর্ক থাকা জরুরি। অ্যালকোহল, সালফেট, রেটিনয়েড, কৃত্রিম সুগন্ধি ইত্যাদি উপাদান ত্বককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। গরম পানি বা বারবার মুখ ধোয়াও ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষা কমায়। শীতকালে কোমল, হালকা ও আর্দ্রতা রক্ষাকারী পণ্যই সর্বোত্তম। তাই শীতকালে ত্বককে সুস্থ রাখতে কিছু উপাদান এড়িয়ে চলা উত্তম।আজ আমরা শীতে ত্বকের যত্নে যেসব উপাদান এড়িয়ে চলা উচিত সে সম্পর্কে জানব।

যেসব উপাদান এড়িয়ে চলবেন

অ্যালকোহলযুক্ত স্কিনকেয়ার পণ্য

শীতকালে ত্বক এমনিতেই শুষ্ক হয়ে যায়। অ্যালকোহলযুক্ত স্কিনকেয়ার পণ্য ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা কেড়ে নেয়। ফলে ত্বক আরও রুক্ষ ও খসখসে হয়ে ওঠে। অনেক টোনার ও ফেসওয়াশে অ্যালকোহল থাকে। এগুলো নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বকে জ্বালাপোড়া দেখা দিতে পারে। শীতে ত্বকের সুরক্ষা স্তর দুর্বল হয়ে পড়ে। অ্যালকোহল সেই স্তরকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করে। এতে ত্বকে লালচে ভাব ও চুলকানি দেখা যায়। সংবেদনশীল ত্বকের জন্য এটি বিশেষভাবে ক্ষতিকর। তাই শীতে অ্যালকোহলমুক্ত পণ্য ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভালো।

সালফেটযুক্ত ফেসওয়াশ ও সাবান

সালফেট ত্বক পরিষ্কার করলেও অতিরিক্ত শুষ্ক করে ফেলে। শীতকালে এই শুষ্কতা আরও বেড়ে যায়। সালফেটযুক্ত ফেসওয়াশ ত্বকের প্রাকৃতিক তেল ধুয়ে ফেলে। ফলে ত্বক টানটান ও অস্বস্তিকর অনুভূত হয়। অনেক সময় ত্বকে ফাটলও দেখা দেয়। এটি ব্রণ ও র‍্যাশের কারণ হতে পারে। শিশু ও বয়স্কদের ত্বকে এর প্রভাব বেশি পড়ে। শীতে মাইল্ড ক্লিনজার ব্যবহার করা জরুরি। সালফেট ত্বকের কোমলতা নষ্ট করে। তাই শীতের সময় সালফেটযুক্ত পণ্য এড়িয়ে চলাই ভালো।

অতিরিক্ত স্ক্রাব বা এক্সফোলিয়েটর

শীতে ত্বক স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি সংবেদনশীল থাকে। অতিরিক্ত স্ক্রাব করলে ত্বকের ওপরের স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ত্বক লাল হয়ে যেতে পারে। অনেক সময় জ্বালাপোড়া ও ব্যথাও অনুভূত হয়। শুষ্ক ত্বকে স্ক্রাব করলে ফাটল তৈরি হয়। এতে ত্বকের আর্দ্রতা দ্রুত কমে যায়। শীতে সপ্তাহে একবারের বেশি স্ক্রাব করা উচিত নয়। হার্ড গ্রেইনের স্ক্রাব ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। নরম এক্সফোলিয়েটর ব্যবহার করা ভালো। তাই শীতে অতিরিক্ত স্ক্রাব এড়িয়ে চলা জরুরি।

কৃত্রিম সুগন্ধিযুক্ত পণ্য

কৃত্রিম সুগন্ধি ত্বকে অ্যালার্জি সৃষ্টি করতে পারে। শীতে ত্বক দুর্বল থাকায় এর প্রভাব বেশি হয়। অনেক লোশন ও ক্রিমে কৃত্রিম ফ্র্যাগরেন্স থাকে। এগুলো ত্বকে চুলকানি বাড়ায়। কখনো কখনো লাল দাগও দেখা যায়। সংবেদনশীল ত্বকের জন্য এটি মারাত্মক হতে পারে। শীতে ত্বককে শান্ত রাখা জরুরি। সুগন্ধিযুক্ত পণ্য ত্বকে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। প্রাকৃতিক বা ফ্র্যাগরেন্স-ফ্রি পণ্য বেশি নিরাপদ। তাই শীতে কৃত্রিম সুগন্ধিযুক্ত পণ্য এড়িয়ে চলুন।

গরম পানি দিয়ে মুখ ও শরীর ধোয়া

শীতে গরম পানি ব্যবহার করতে সবাই পছন্দ করে। কিন্তু এটি ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। গরম পানি ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট করে। ফলে ত্বক দ্রুত শুষ্ক হয়ে যায়। নিয়মিত গরম পানিতে গোসল করলে ত্বক রুক্ষ হয়। অনেক সময় চুলকানি শুরু হয়। ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে ত্বক প্রাণহীন দেখায়। কুসুম গরম বা স্বাভাবিক পানি ব্যবহার করা ভালো। তাই শীতে অতিরিক্ত গরম পানি ব্যবহার এড়িয়ে চলা উচিত।

রেটিনয়েড বা ভিটামিন–এ সমৃদ্ধ পণ্য

রেটিনয়েড ত্বকের জন্য কার্যকর হলেও শীতে এটি সমস্যার কারণ হতে পারে। এই উপাদান ত্বককে অতিরিক্ত শুষ্ক করে ফেলে। শীতকালে ত্বক এমনিতেই পানিশূন্য থাকে। রেটিনয়েড ব্যবহারে খোসা ওঠা শুরু হয়। অনেকের ত্বকে জ্বালাপোড়া দেখা দেয়। সংবেদনশীল ত্বকের জন্য এটি বেশি ক্ষতিকর। ঠান্ডা আবহাওয়ায় ত্বক এর প্রভাব সহ্য করতে পারে না। এতে লালচে ভাব ও চুলকানি বাড়ে। শীতে ব্যবহার করলে ত্বকের ক্ষতি হয়। তাই শীতকালে রেটিনয়েড এড়িয়ে চলাই ভালো।

শক্তিশালী ফোমিং ক্লিনজার

ফোমিং ক্লিনজার খুব বেশি ফেনা তৈরি করে। এই ফেনা ত্বকের প্রাকৃতিক তেল ধুয়ে ফেলে। শীতে ত্বক আরও শুষ্ক হয়ে যায়। এতে মুখ ধোয়ার পর টানটান লাগে। দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে ত্বক রুক্ষ হয়ে ওঠে। অনেক সময় ত্বকে ফাটল দেখা যায়। শুষ্ক ত্বকের মানুষ বেশি ভোগে। শীতে নন-ফোমিং ক্লিনজার উপযোগী। মাইল্ড ও ক্রিমি ক্লিনজার ত্বকের জন্য নিরাপদ। তাই শক্তিশালী ফোমিং ক্লিনজার এড়িয়ে চলুন।

লেবু বা অতিরিক্ত অ্যাসিডিক উপাদান

লেবুতে প্রচুর অ্যাসিড থাকে। এটি ত্বকের আর্দ্রতা নষ্ট করে। শীতে লেবু ব্যবহারে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। অনেক সময় ত্বকে জ্বালা করে। ঘরোয়া প্যাক হিসেবে লেবু ব্যবহার বিপজ্জনক হতে পারে। এতে ত্বকে কালচে দাগ পড়ার ঝুঁকি থাকে। ঠান্ডা আবহাওয়ায় ত্বক বেশি সংবেদনশীল থাকে। অ্যাসিডিক উপাদান ত্বকের ভারসাম্য নষ্ট করে। এতে ত্বক প্রাণহীন দেখায়। তাই শীতে লেবু ও অতিরিক্ত অ্যাসিডিক উপাদান এড়িয়ে চলুন।

মাটি বা ফুলারস আর্থ (মুলতানি মাটি)

মুলতানি মাটি ত্বকের তেল শোষণ করে। শীতে ত্বকে তেল কম থাকে। তাই এটি ব্যবহার করলে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়। অনেক সময় ত্বক ফেটে যেতে পারে। এতে চুলকানি ও অস্বস্তি বাড়ে। শুষ্ক ও সংবেদনশীল ত্বকের জন্য এটি ক্ষতিকর। শীতে ত্বককে আর্দ্র রাখা জরুরি। মাটি ত্বকের আর্দ্রতা কেড়ে নেয়। ফলে ত্বক নিষ্প্রাণ দেখায়। তাই শীতে মুলতানি মাটি ব্যবহার এড়িয়ে চলাই ভালো।

বারবার ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধোয়া

বারবার মুখ ধোয়া শীতে ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। এতে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট হয়। শীতে এই তেল ত্বককে সুরক্ষা দেয়। অতিরিক্ত ফেসওয়াশ ব্যবহার ত্বককে শুষ্ক করে। অনেক সময় মুখে খোসা ওঠে। ত্বক টানটান অনুভূত হয়। দিনে দুইবার মুখ ধোয়াই যথেষ্ট। এর বেশি হলে ত্বকের ক্ষতি হয়। মাইল্ড ফেসওয়াশ ব্যবহার করা উচিত। তাই শীতে বারবার মুখ ধোয়া এড়িয়ে চলুন।

পরামর্শ

  • শীতকালে হালকা ও ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম ব্যবহার করুন।
  • সকাল ও রাতে ত্বক ধুয়ে হালকা ময়েশ্চারাইজার লাগান।
  • নরম, অ্যালকোহলমুক্ত ফেসওয়াশ ব্যবহার করুন।
  • ত্বক শুষ্ক হলে হাইড্রেটিং সিরাম বা তেল ব্যবহার করতে পারেন।
  • সপ্তাহে এক বা দুইবার নরম এক্সফোলিয়েটর ব্যবহার করুন।
  • ঠান্ডা বা শুষ্ক বাতাস থেকে ত্বক রক্ষা করতে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করুন।
  • বাইরে বের হলে সানস্ক্রিন লাগানো ভুলবেন না।
  • পর্যাপ্ত পানি পান করে ত্বককে ভিতর থেকে হাইড্রেট রাখুন।
  • ঘরোয়া প্রাকৃতিক প্যাক ব্যবহার করলে ত্বক কোমল ও উজ্জ্বল থাকে।
  • নিয়মিত সাস্থ্যসম্মত খাদ্য ও পর্যাপ্ত ঘুম ত্বক রক্ষায় খুবই জরুরি।
  • ত্বকে অস্বাভাবিক সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। শীতে ত্বকের যত্নে শীতে ত্বকের যত্নে

See also

ঘুমানোর সময় আলো জ্বালিয়ে রাখলে যে ৮ ক্ষতি হতে পারে

মাল্টার উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ – ওজন কমাতে কার্যকরী প্রাকৃতিক ফল

আমলকির উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ- স্বাস্থ্য রক্ষায় বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত অমূল্য ভেষজ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top