Spread the love

খেজুর ফ্রুকটোজ এবং গ্লাইসেমিক সমৃদ্ধ অত্যন্ত সুস্বাদু ও পুষ্টিকর ফল। খেজুরের ইংরেজি নাম Date Palm এবং বৈজ্ঞানিক নাম হলো Phoenix dactylifera। প্রতি ৩০ গ্রাম পরিমাণ খেজুরে রয়েছে ৯০ ক্যালোরি, ১ গ্রাম প্রোটিন, ১৩ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ২.৮ গ্রাম ফাইবারসহ আরো অনেক পুষ্টিকর উপাদান। এটি শক্তির ভালো উৎস এবং খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের ক্লান্তিভাব দূর হয়। এতে থাকা ভিটামিন বি৬ মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। মানব দেহের জন্য দরকারী এমাইনো এসিড খেজুর ছাড়া অন্য কোনো ফলে নেই। আজ আমরা খেজুরের অসাধারণ কিছু উপকারিতা সম্পর্কে জানব।

খেজুর ক্যান্সার প্রতিরোধ করেঃ

এটি প্রাকৃতিক আঁশে পরিপূর্ণ তাই ক্যান্সার প্রতিরোধে সক্ষম। যারা নিয়মিত খেজুর খান তাদের ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে অ্যাবডমিনাল ক্যান্সার রোধে খেজুর অত্যন্ত কার্যকরী ফল।

হারমোন উৎপাদনে সহায়তা করেঃ

খেজুরে থাকা সেরোটোনিন হারমোন উৎপাদনে বিশেষ ভূমিকা রাখে এবং মানসিক প্রফুল্লতা আনে।

উচ্চ রক্তচাপ কমায়ঃ

প্রতিটি খেজুরে রয়েছে ২০-২৫ মিলিগ্রাম ম্যাগনেসিয়াম, যা উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।

আয়রণের ঘাটতি পূরণ করেঃ

একজন সুস্থ মানুষের শরীরে যতটুকু আয়রণ প্রয়োজন, খেজুর খেলে তার ১১ ভাগ পূরণ হয়।    

রক্তশূন্যতা দূর করেঃ

রক্তে লৌহিত কনিকার অভাব হলে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। খেজুর লৌহসমৃদ্ধ হওয়ায় রক্তশূন্যতা দূরীকরণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।

হজমে সহায়তা করেঃ

এতে রয়েছে স্যলুবল, ইনস্যলুবল ফাইবার ও বিভিন্ন ধরণের এমাইনো এসিড যা সহজে খাবার হজমে সহায়ক।

ঠান্ডাজনিত সমস্যা দূর করেঃ

যাদের গলা ব্যথা ও ঠান্ডাজনিত সমস্যা রয়েছে তারা এধরণের সমস্যা এড়াতে নিয়মিত এ ফল খেতে পারেন।

অন্ত্রের গোলযোগ দূর করতে সহায়কঃ

এটি কৃমি ও ক্ষতিকারক পরজীবী প্রতিরোধ করে অন্ত্রে উপকারি ব্যাকটেরিয়া তৈরি করে। খাদ্য পরিপাকে সাহায্য ও কোষ্ঠকাঠিন্য রোধে সহায়তা করে।

শিশুদের জন্য উপকারিঃ

শিশুদের শরীরের বৃদ্ধি, ডায়রিয়া প্রতিরোধ ও মাড়ি শক্ত করে।

হাড় গঠন করেঃ

প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম থাকায় হাড় গঠন ও হাড়কে মজবুত করতে সাহায্য করে।

ক্ষুধা নিবারকঃ

খেজু্রে থাকা পুষ্টি উপাদান ক্ষুধার তীব্রতা কমিয়ে দেয় এবং পাকস্থলীকে কম খাবার গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে। খাদ্যের বিকল্প হিসেবে ৩/৪ টি খেজুর খেয়ে ১ গ্লাস পানি খেতে পারেন।

মুটিয়ে যাওয়া রোধ করেঃ

এতে থাকা অ্যান্টিওক্সিডেন্ট ধমনী কোষ থেকে ক্ষতিকারক কোলেস্টরল কমিয়ে মুটিয়ে যাওয়া রোধে যাহায্য করে।

——————————————————Palm tree

চুল পড়া বন্ধ করেঃ

আয়রণ সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে খেজুর মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন, চুলের বৃদ্ধি ও চুল পড়া রোধ করে।

গর্ভাবস্থায় কার্যকরীঃ

খেজুরে থাকা উপকারি উপাদানগুলো গর্ভবতী মহিলা ও গর্ভের শিশুর জন্য খুবই উপকারি। বিশেষ করে গর্ভাবস্থার শেষ মাসগুলিতে জরাযুর পেশি শক্তিশালী করার জন্য নিয়ম করে খেজুর খাওয়া প্রয়োজন। খেজুরে রয়েছে ভিটামিন কে, যা গর্ভকালীন কোষ্ঠকাঠীন্যতা দূর করে।

দৃষ্টিশক্তি উন্নতি করেঃ

খেজুরে আছে এমন পুষ্টিগুণ, যা রাতকানা প্রতিরোধ করে এবং দৃষ্টিশক্তির উন্নতিতে সহায়তা করে।

হৃদপিণ্ড শক্তিশালী  করেঃ

হৃদপিণ্ডের সবচেয়ে নিরাপদ ঔষধ। খেজুরে থাকা খনিজ হৃদস্পন্দন সঠিক রাখতে সাহায্য করে। ৩/৪ টি খেজুর সারারাত পানিতে ভিজিয়ে সকালে  সেই পানি পান করলে দুর্বল হৃদপিণ্ড শক্তিশালী হয়।

আরও পড়ুনঃ সুস্থ থাকতে নিয়মিত আটা রুটি খান।

মায়ের দুধের পুষ্টিগুণ বাড়িয়ে দেয়ঃ

বুকের দুধ খাওয়ানো মায়েদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য, যা বুকের দুধের পুষ্টিগুণ আরো বাড়িয়ে দেয় এবং শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

ক্লান্তি দূর হয়ঃ

খেজুরের সাথে দুধ ও মধুর একসঙ্গে মিশিয়ে খেলে ক্লান্তি দূর হয়।

রুচি বাড়ায়ঃ

যারা ঠিকমত খেতে চায় না তারা নিয়মিত খেজুর খেলে রুচি ফিরে আসে।

পক্ষাঘাতে কার্যকরীঃ

পক্ষাঘাত, মুখের অর্ধাঙ্গ ও সব ধরণের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অবশকারী রোগের জন্য উপকারি।  

পেটের রোগের প্রকপ কমায়ঃ

খেজুরে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকায় বদ-হজম, কোলাইটিস ও হেমোরয়েডের মতো রোগ আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়।

অ্যালার্জি কমায়ঃ

খেজুরে থাকা সালফার কম্পাউন্ড অ্যালার্জির মত রোগ সারাতে সাহায্য করে। যাদের অ্যালার্জির সমস্যা আছে তারা খাওয়ার সাথে এ ফলটি রাখবেন।

ত্বকের ক্ষতি থেকে রক্ষা করেঃ

খেজুর ত্বকের জন্য অনেক উপকারি। নিয়মিত খেলে ত্বকের উজ্জলতা ভাব ফিরে আসে।

স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা কমায়ঃ

নিয়মিত খেজুর খেলে মানুষের স্ট্রোক হওয়ার ভয়াবহতাকে ৪০% কমিয়ে দেয়।

জেনে রাখুনঃ

  • মিষ্টি খেজুরের গায়ে কখনো মিষ্টি হয় না। খেজুরের গায়ে মিষ্টি হলে বুঝতে হবে এতে কৃত্রিম মিষ্টি মিশানো রয়েছে।
  • ভালো খেজুরে কখনো পিঁপড়া আসে না।
  • বায়ুরোধী কৌটায় ভরে ফ্রিজে রেখে দিলে দুই বছর পর্যন্ত ভাল থাকবে।
  • খেজুরের সাথে জিরা মিশিয়ে রাখলে এর ভিতরে পোকা হয় না।
  • কেনার সময় বোটার ডাকনাসহ কেনার চেষ্টা করবেন।
  • শরীরে পটাশিয়ামের পরিমাণ যাদের বেশি তারা খেজুর খেতে সতর্ক থাকতে হবে।
  • মাইগ্রেন বা প্রচণ্ড মাথা ব্যথার সমস্যা থাকলে এটি না খাওয়াই ভালো।
  • ডায়াবেটিস থাকলে খেজুর খাওয়ার পূর্বে অবশ্যই নিউট্রিশনিস্ট এর পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।
  • যারা ডিপ্রেশনে ভোগেন তারা খেজুর খেলে রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে।
  • প্রতিদিন ৩/৪ টি খেজুর মানব দেহের এমিউন সিস্টেম ও মেটাবলিজম ঠিক রাখে।


Spread the love