অ্যানড্রয়েড ফোনে ভাইরাস এখন একটি সাধারণ ঝুঁকি, কারণ অনেকেই না জেনে অবিশ্বস্ত অ্যাপ বা সন্দেহজনক লিংক ব্যবহার করে থাকেন। এতে ফোন ধীর হয়ে যাওয়া, অস্বাভাবিক বিজ্ঞাপন দেখানো বা ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। তাই ডিভাইসকে নিরাপদ রাখতে শুরু থেকেই একটি নির্ভরযোগ্য সিকিউরিটি অ্যাপ ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আপনার অ্যানড্রয়েড ডিভাইসকে নিরাপদ ও গতি–সমৃদ্ধ রাখতে একটি বিশ্বস্ত সিকিউরিটি অ্যাপ ইনস্টল করা এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
ফোনে ভাইরাস এড়াতে যে অ্যাপ ইনস্টল করবেন
Avast Antivirus – Mobile Security
- Avast অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং নির্ভরযোগ্য অ্যান্টিভাইরাস সমাধান।
- এটি রিয়েল-টাইমে ভাইরাস, ম্যালওয়্যার ও স্পাইওয়্যার শনাক্ত করে ফোনকে সুরক্ষিত রাখে।
- অ্যাপটি নিয়মিত স্ক্যান চালিয়ে অনিরাপদ ফাইল বা অ্যাপ সম্পর্কে আপনাকে সময়মতো সতর্ক করে।
- পাবলিক Wi-Fi ব্যবহার করলে এর Wi-Fi Security ফিচার সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করে।
- Avast ফোনের জাঙ্ক ফাইল পরিষ্কার করে পারফরম্যান্সও বাড়িয়ে তোলে।
- যারা ফ্রি এবং শক্তিশালী সিকিউরিটি চান, তাদের জন্য এটি একটি উপযুক্ত অ্যাপ।
Bitdefender Mobile Security
- Bitdefender খুবই লাইটওয়েট, তাই ফোনের র্যাম ও ব্যাটারি একদম কম ব্যবহার করে।
- অ্যাপটি ব্যাকগ্রাউন্ডে থেকে সবসময় নতুন হুমকি শনাক্ত করে তাৎক্ষণিক ব্লক করতে সক্ষম।
- এর Web Protection ফিচার ফিশিং সাইট এবং অনিরাপদ লিংক থেকে আপনাকে সুরক্ষিত রাখে।
- অ্যাপ পারমিশন মনিটর করে সন্দেহজনক আচরণ করলে আপনাকে সতর্ক করে।
- ইন্টারফেস অত্যন্ত সহজ এবং ব্যবহার-বান্ধব, তাই নতুন ব্যবহারকারীও সহজে ব্যবহার করতে পারবে।
- নিরাপদ ও দ্রুত সুরক্ষা চান এমনদের জন্য Bitdefender নিঃসন্দেহে সেরা পছন্দ।
Kaspersky Mobile Antivirus
- Kaspersky বরাবরই সাইবার সিকিউরিটিতে শক্তিশালী ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিত।
- এটি ভাইরাস, স্পাইওয়্যার এবং র্যানসমওয়্যার থেকে ফোনকে সুরক্ষিত রাখে।
- Auto Scan ফিচারের মাধ্যমে ফোন প্রতিদিন নিজে থেকেই স্ক্যান সম্পন্ন করে।
- Anti-Theft ফিচার ফোন হারালে ট্র্যাক, লক বা অ্যালার্ম চালু করার সুযোগ দেয়।
- ফ্রি ভার্সনেও প্রয়োজনীয় সব ধরনের বেসিক সুরক্ষা পাওয়া যায়।
- নিরাপত্তা নিয়ে সচেতন ব্যবহারকারীদের জন্য এটি একটি নির্ভরযোগ্য অ্যাপ।
Malwarebytes Mobile Security
- Malwarebytes বিশেষভাবে ম্যালওয়্যার, অ্যাডওয়্যার এবং স্পাইওয়্যার শনাক্তে দক্ষ।
- অ্যাপটি ফোনের প্রতিটি অ্যাপ ও ফাইল গভীরভাবে স্ক্যান করে ঝুঁকি থাকলে সঙ্গে সঙ্গে জানায়।
- এর Privacy Audit ফিচার দেখে বুঝতে পারবেন কোন অ্যাপ কী ধরনের পারমিশন নিচ্ছে।
- অ্যাপটি খুব হালকা, তাই ফোনের গতিতে কোনো বাধা সৃষ্টি করে না।
- অনিরাপদ লিংক বা পপ-আপ এলে এটি আগে থেকেই আপনাকে সতর্ক করে।
- সহজ ও কার্যকর সুরক্ষার জন্য Malwarebytes অনেকের প্রথম পছন্দ।
Norton Mobile Security
- Norton উন্নত স্তরের প্রিমিয়াম সাইবার সিকিউরিটি প্রদান করে।
- এটি ক্ষতিকর অ্যাপ, অনিরাপদ ওয়েবসাইট এবং ফিশিং আক্রমণ আগেই শনাক্ত করে ব্লক করে।
- অ্যাপটি ডেটা-চুরি বা ট্র্যাকিং সন্দেহ হলে তাৎক্ষণিকভাবে সতর্কবার্তা পাঠায়।
- পাবলিক Wi-Fi ব্যবহারের সময় Norton স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেটওয়ার্ক স্ক্যান করে ঝুঁকি কমায়।
- যদিও পেইড, তবে এর সুরক্ষা ও নির্ভরযোগ্যতা অন্যান্য অ্যাপের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।
- যারা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা চান, তাদের জন্য Norton একটি প্রিমিয়াম ও ভরসাযোগ্য সমাধান।
পরামর্শ
- শুধু Play Store থেকে অ্যাপ ইনস্টল করুন, থার্ড-পার্টি সাইট বা অজ্ঞাত উৎস এড়িয়ে চলুন।
- Google Play Protect সক্রিয় রাখুন, এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাপ স্ক্যান করে।
- ফোন ও অ্যাপ নিয়মিত আপডেট করুন।
- অজানা লিংক বা পপ-আপে ক্লিক করবেন না।
- পাবলিক Wi-Fi ব্যবহারে সতর্ক থাকুন, প্রয়োজন হলে VPN ব্যবহার করুন।
- অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ আনইনস্টল করুন, অনিরাপদ বা সন্দেহজনক অ্যাপ ফোনে রাখবেন না।
- File Sharing অ্যাপ বা লিংক ব্যবহারে সতর্ক থাকুন, অজানা ফাইল কখনো খুলবেন না।
- ডিভাইস এনক্রিপশন সক্রিয় রাখুন, এতে ডেটা নিরাপত্তা শক্তিশালী হয়।
- সন্দেহজনক SMS বা WhatsApp লিংক এড়িয়ে চলুন। ফোনে ভাইরাস
See also
সাইলেন্ট মুডে থাকা অথবা হারানো স্মার্টফোন খুঁজে পাবেন যেভাবে
মারাত্মক বিপদ থেকে বাঁচতে হেডফোন যেভাবে ব্যবহার করবেন
মোবাইল ফোন ব্যবহারে যেসব রোগের কারণ হতে পারে এবং জেনেনিন নিরাপদ ব্যবহারের কিছু টিপস্