৬ মাস বয়স শিশুর জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই বয়সেই শুরু হয় মায়ের দুধের পাশাপাশি সম্পূরক খাবার (Complementary Feeding) দেওয়ার পর্ব। জন্মের প্রথম ৬ মাস শুধুমাত্র মায়ের দুধই শিশুর জন্য যথেষ্ট হলেও, ৬ মাস পার হওয়ার পর শিশুর শরীরের চাহিদা পূরণের জন্য বাড়তি পুষ্টিকর খাবার প্রয়োজন হয়। এই নতুন খাবার শুরু করার সময়ই শিশুকে ধীরে ধীরে বিভিন্ন স্বাদ, গন্ধ ও ধরন সম্পর্কে পরিচিত করাতে হয়। তবে খাবার দিতে হবে সতর্কতার সঙ্গে—যাতে হজমে অসুবিধা না হয় এবং শিশুর শরীরে কোনো অ্যালার্জি বা প্রতিক্রিয়া না দেখা দেয়। নিচে ৬ মাসের বাচ্চার খাবার চার্ট দেওয়া হলো।
৬ মাসের বাচ্চার খাবার চার্ট (সপ্তাহভিত্তিক তালিকা)
| দিন | সকাল (৮–৯ টা) | দুপুর (১২–১ টা) | বিকেল (৪–৫ টা) |
| শনিবার | মায়ের দুধ | ডিমের কুসুম (ভালোভাবে সিদ্ধ করে চটকানো) | মায়ের দুধ |
| রবিবার | মায়ের দুধ | চালের মাড় (পাতলা ভাত ছেঁকে নেওয়া) | মায়ের দুধ |
| সোমবার | মায়ের দুধ | মসুর ডালের পাতলা মাড় (হালকা ছেঁকে) | ১ চামচ কলা চটকানো |
| মঙ্গলবার | মায়ের দুধ | পাতলা খিচুড়ি (ভাত+ডাল+সবজি মিশিয়ে ব্লেন্ড করা) | মায়ের দুধ |
| বুধবার | মায়ের দুধ | সুজি রান্না (পানি বা দুধে হালকা সিদ্ধ) | আধা চা চামচ পাকা পেঁপে |
| বৃহস্পতিবার | মায়ের দুধ | আলু চটকানো (সিদ্ধ করে নরম করে নেওয়া) | মায়ের দুধ |
| শুক্রবার | মায়ের দুধ | মিষ্টিকুমড়া পিউরি (সিদ্ধ করে চটকানো) | কলা বা পেঁপে |
যেসব খাবার ৬ মাস বয়সে দেওয়া যাবে
| খাবারের ধরন | উদাহরণ |
| শস্য জাতীয় | চালের মাড়, খিচুড়ি, সুজি, চালের গুঁড়ার পায়েস |
| ডালজাতীয় | মসুর ডাল, মুগ ডাল (পাতলা মাড়) |
| সবজি | মিষ্টিকুমড়া, লাউ, আলু, গাজর (সিদ্ধ ও পিউরি করে) |
| ফলমূল | কলা, পেঁপে, আপেল (সেদ্ধ করে পিউরি), আম |
| প্রোটিন জাতীয় | ডিমের কুসুম (১/২ চা চামচ দিয়ে শুরু), মুরগির মাংসের ঝোল (শুধু তরল) |
যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন
- মসলা দেওয়া খাবার
- চিনি ও লবণ
- মধু (১ বছরের আগে নয়)
- গরু বা মহিষের দুধ
- বাদাম, আঙুর বা শক্ত কোনো খাবার
- কাঁচা বা আধা সিদ্ধ ডিম
See also বাচ্চাদের জ্বর হলে কী খাওয়াবেন? শিশু বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাস্থ্যকর খাবার তালিকা
পরামর্শ
- প্রতিদিন একটি নতুন খাবার দিন-দেখুন কোনো অ্যালার্জি বা সমস্যা হয় কি না।
- খাবার যেন হয় পাতলা ও অল্প পরিমাণে (১–২ চা চামচ)।
- চিনি, লবণ, মসলা একেবারেই দেবেন না।
- খাবার ভালোভাবে সিদ্ধ ও পরিষ্কার পাত্রে পরিবেশন করুন।
- শিশুর যদি বমি, পায়খানার সমস্যা, র্যাশ হয়—নতুন খাবার বন্ধ করুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
- শিশু যদি না খেতে চায়, জোর করবেন না। ধৈর্য ধরুন।