পৃথিবীর গভীরতম স্থান ” মারিয়ানা ট্রেঞ্চ ” সম্পর্কিত অজানা ১০ রহস্য

পৃথিবীর বুকে আজও কিছু স্থান এমন রয়েছে যা মানুষের পদস্পর্শ থেকে বহু দূরে, যেখানে পৌঁছানো আজও এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। প্রশান্ত মহাসাগরের গভীরে লুকিয়ে থাকা মারিয়ানা ট্রেঞ্চ তেমনই এক বিস্ময়কর স্থান, যার গভীরতা এত বেশি যে সেখানে পুরো মাউন্ট এভারেস্ট পর্বতকে সহজেই লুকিয়ে রাখা যায়।। বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে এই গভীর খাত নিয়ে গবেষণা করে চলেছেন এবং প্রতিবারই নতুন নতুন তথ্য তাদের বিস্মিত করে। কখনও সেখানে পাওয়া যায় অদ্ভুত স্বচ্ছ মাথাওয়ালা মাছ, কখনও ধরা পড়ে এলিয়েন সংকেত মনে হওয়া ভৌতিক সব শব্দ। এই ট্রেঞ্চের গভীরে লুকিয়ে আছে হাজারো অমীমাংসিত রহস্য, যা আমাদের পৃথিবী সম্পর্কে ধারণাকে বারবার বদলে দেয়। চলুন, আজ আমরা পৃথিবীর এই সবচেয়ে গভীর ও রহস্যময় স্থান মারিয়ানা ট্রেঞ্চ সম্পর্কে তেমনই কিছু অজানা তথ্যের সন্ধান করি, যা হয়তো আপনি আগে কখনও শোনেননি।

মারিয়ানা ট্রেঞ্চ এর অজানা রহস্য

১. মাউন্ট এভারেস্টের চেয়েও গভীর এই খাত

মারিয়ানা ট্রেঞ্চ এত গভীর যে এর ভেতরে পুরো মাউন্ট এভারেস্ট পর্বতটি সহজেই ঢুকে যেতে পারে, এবং তারপরেও উপরে কিছু জায়গা ফাঁকা থাকবে। ট্রেঞ্চটির সর্বনিম্ন বিন্দু চ্যালেঞ্জার ডিপের গভীরতা প্রায় ১১ কিলোমিটার, যেখানে মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা মাত্র সাড়ে আট কিলোমিটারের মতো। সেখানে পৌঁছাতে চার ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে যদি কোনো যানবাহন প্রতি সেকেন্ডে এক মিটার গতিতে নামতে পারে। এই গভীর খাতটি দুইটি টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষের ফলে তৈরি হয়েছে এবং এই প্রক্রিয়া এখনও চলমান রয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের তুলনায় সেখানে চাপ প্রায় এক হাজার গুণ বেশি, যা একটি ইস্পাতের সাবমেরিনকে পিষ্ট করে দিতে পারে। আগে বিজ্ঞানীরা ভাবতেন এত চাপে কোনো প্রাণী বাঁচতে পারে না, কিন্তু বর্তমানে জানা গেছে সেখানেও প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে। এই খাতটি পৃথিবীর ইতিহাস সম্পর্কে অনেক অমূল্য তথ্য আমাদের দিতে পারে, যা নিয়ে গবেষকরা এখনও কাজ করছেন।

২. প্রায় আঠারো কোটি বছর পুরনো একটি জীবাশ্ম

মারিয়ানা ট্রেঞ্চের বয়স প্রায় ১৮০ মিলিয়ন বছর, অর্থাৎ এটি ডাইনোসরদের সময়কালেরও পুরনো একটি ভূতাত্ত্বিক গঠন। যখন পৃথিবীর মানচিত্র আজকের মতো ছিল না, তখন থেকেই এই বিশাল খাতের সৃষ্টি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। টেকটোনিক প্লেটের এই ধীর সংঘর্ষের ফলে তৈরি হওয়া খাতটি আজও পরিবর্তিত হচ্ছে এবং এর গভীরতা ধীরে ধীরে বাড়ছে। এই প্রাচীন ভূত্বকটি আমাদের গ্রহের আদিম ইতিহাস সম্পর্কে অমূল্য তথ্য ধারণ করে আছে, যা বিজ্ঞানীরা অধ্যয়ন করছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই খাতে প্রচুর পলি জমে পুরু স্তর তৈরি হয়েছে, যা প্রাচীন সমুদ্রের জলবায়ু ও পরিবেশের তথ্য সংরক্ষণ করে রেখেছে। এই পলির স্তর বিশ্লেষণ করে জানা যায় যে লক্ষ লক্ষ বছর আগে এখানকার আবহাওয়া কেমন ছিল। এই প্রাচীন খাতের গভীরে অনেক অজানা খনিজ পদার্থও লুকিয়ে আছে বলে ধারণা করা হয়, কিন্তু সেগুলো উত্তোলন করা এখনও সম্ভব হয়নি। গবেষকদের মতে, আমরা যদি আরও গভীরে খনন করতে সক্ষম হই তাহলে এই খাতের বয়স আরও বেশি বলে প্রমাণিত হতে পারে।

৩. এখানে আগুন আর বরফ পাশাপাশি অবস্থান করে

মারিয়ানা ট্রেঞ্চের তলদেশে সাধারণ তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রির কাছাকাছি থাকলেও, সেখানে কিছু উষ্ণ প্রস্রবণ আছে যেগুলো ৪০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার পানি নির্গত করে। এই অদ্ভুত বৈপরীত্য প্রকৃতির এক বিস্ময়, যেখানে ফুটন্ত পানি আর হিমশীতল পরিবেশ পাশাপাশি অবস্থান করে। এই উষ্ণ প্রস্রবণগুলোর পানি এত গরম যে তা সহজেই সীসা গলিয়ে ফেলতে পারে এবং মানুষের চামড়া পুড়িয়ে দিতে পারে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল, এই ফুটন্ত পানির একেবারে পাশেই বিভিন্ন ধরনের অদ্ভুত প্রাণীর বাস। এই প্রাণীরা সূর্যের আলো ব্যবহার না করে বরং সালফার ও অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থ থেকে শক্তি সংগ্রহ করে বেঁচে থাকে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, পৃথিবীর প্রথম প্রাণের সূচনা হয়তো এই ধরনের উষ্ণ প্রস্রবণের আশেপাশেই হয়েছিল। এই ভেন্টগুলোর চারপাশে টিউব ওয়ার্ম ও বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার উপনিবেশ গড়ে উঠেছে। এই প্রাণীগুলোর শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া এতই অদ্ভুত যে, এরা এই চরম তাপ ও বিষাক্ত রাসায়নিকের মধ্যেও অনায়াসে বেঁচে থাকে।

৪. অদ্ভুত স্বচ্ছ মাথাওয়ালা এক মাছ

মারিয়ানা ট্রেঞ্চের প্রায় আড়াই হাজার ফুট গভীরতায় ‘ব্যারেল আই’ নামক এক ধরণের অদ্ভুত মাছ বাস করে, যার মাথা সম্পূর্ণ স্বচ্ছ। এই স্বচ্ছ মাথার ভেতর দিয়ে তার সবুজ রঙের নলাকার চোখ দুটি পরিষ্কার দেখা যায়, যা কেবল উপরের দিকে তাকিয়ে শিকারের সন্ধান করে। এই মাছটি সাধারণত স্থির হয়ে ভেসে থাকে এবং উপরের দিকে তাকিয়ে দেখে কোনো ছোট মাছ বা জেলিফিশ তার ওপর দিয়ে যাচ্ছে কিনা। এর চোখগুলো এতই সংবেদনশীল যে অন্ধকারেও সামান্য আলো শনাক্ত করতে পারে এবং শিকার ধরতে পারে। ১৯৩৯ সালে এই মাছ প্রথম আবিষ্কৃত হলেও এখনও এর স্বচ্ছ মাথার কারণ নিয়ে গবেষণা চলছে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই স্বচ্ছতা শিকারীদের থেকে আত্মরক্ষার একটি কৌশল হতে পারে। এর চোখের বিশেষ গঠনের কারণে এটি একই সঙ্গে উপরের ও নিচের দিক দেখতে পারে এবং আশেপাশের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করতে পারে। এই মাছের খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে খুব কম জানা গেছে কারণ এত গভীরে এটি পর্যবেক্ষণ করা খুব কঠিন একটি কাজ।

৫. এখানে প্লাস্টিক পৌঁছে গেছে পৃথিবীর তলদেশে

২০১৯ সালে অভিযাত্রী ভিক্টর ভেস্কোভো যখন চ্যালেঞ্জার ডিপে নামেন, তখন তিনি সেখানে ১১ কিলোমিটার গভীরে একটি প্লাস্টিকের বোতল ও মিষ্টির মোড়ক দেখতে পান। এই আবিষ্কার বিজ্ঞানী মহলকে হতবাক করে দিয়েছিল, কারণ এটি প্রমাণ করে যে প্লাস্টিক দূষণ এখন পৃথিবীর একেবারে তলদেশেও পৌঁছে গেছে। এত গভীরে প্লাস্টিক সহজে পচে না এবং প্রচণ্ড চাপ ও ঠাণ্ডায় এটি শত শত বছর ধরে অক্ষত অবস্থায় থাকে। এই প্লাস্টিকের টুকরোগুলো ছোট ছোট প্রাণীর খাদ্যের সাথে মিশে যায় এবং ধীরে ধীরে খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করে। ফলে ক্ষুদ্র প্রাণী থেকে শুরু করে বড় মাছ পর্যন্ত সবাই মাইক্রোপ্লাস্টিক দ্বারা দূষিত হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা অনুমান করেন, প্রতি বছর প্রায় ১০ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক বর্জ্য সমুদ্রে পড়ে এবং তার একটি বড় অংশ তলদেশে জমা হচ্ছে। এত গভীরে প্লাস্টিক অপসারণ করা প্রযুক্তিগতভাবে প্রায় অসম্ভব, তাই এটি সেখানেই থেকে যাবে। এই বাস্তবতা আমাদের প্লাস্টিক ব্যবহার কমানোর এবং ভালো বর্জ্য ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব বোঝায়।

৬. এখানে বাস করে দৈত্যাকার বাগ

মারিয়ানা ট্রেঞ্চের অন্ধকার গভীরতায় ‘ডিপ-সি জায়ান্টিজম’ নামক এক অদ্ভুত ঘটনা দেখা যায়, যেখানে সাধারণ প্রাণীরা অস্বাভাবিক রকমের বড় আকার ধারণ করে। সেখানে সাধারণ চিংড়ির মতো ‘অ্যাম্ফিপড’ প্রজাতির প্রাণী পাওয়া যায় যাদের আকার ৩০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়, যা স্বাভাবিকের চেয়ে বিশ গুণ বড়। বিজ্ঞানীরা এখনও নিশ্চিত নন কেন এত কম খাদ্য ও চরম চাপের পরিবেশে প্রাণীরা এত বড় হয়। কিছু গবেষকের মতে, ঠাণ্ডা পরিবেশে প্রাণীদের বিপাক ক্রিয়া ধীর হয়ে যায় এবং তারা বেশি দিন বাঁচে, ফলে আকার বড় হওয়ার সুযোগ পায়। এই দৈত্যাকার প্রাণীদের মধ্যে ‘সুপারজায়ান্ট অ্যাম্ফিপড’ নামক এক প্রজাতি আছে, যাদের আকার প্রায় এক ফুট পর্যন্ত হতে পারে। এরা মৃত তিমি বা অন্যান্য বড় প্রাণীর দেহ পড়ে গেলে সেই খাবার খেয়ে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে। এই অঞ্চলে আইসোপড নামক প্রাণীরাও বিশাল আকারের হয়, যারা দেখতে অনেকটা বাগ বা উকুনের মতো। এই প্রাণীদের শরীরে বিশেষ প্রোটিন থাকে যা তাদের চরম চাপ সহ্য করতে সাহায্য করে। গবেষকরা এই প্রাণীদের নিয়ে অধ্যয়ন করে জীবনের অভিযোজন ক্ষমতা সম্পর্কে নতুন তথ্য পাচ্ছেন।

৭. এখানে পৌঁছেছে পারমাণবিক বোমার তেজস্ক্রিয়তা

গবেষণায় দেখা গেছে, মারিয়ানা ট্রেঞ্চের গভীরে বসবাসকারী ক্রাস্টেসিয়ানদের দেহে কার্বন-১৪ নামক তেজস্ক্রিয় পদার্থ পাওয়া গেছে, যা ১৯৫০-এর দশকে শীতল যুদ্ধের সময় প্রশান্ত মহাসাগরে হওয়া পারমাণবিক বোমা পরীক্ষার ফল। বিজ্ঞানীরা যখন ট্রেঞ্চের তলদেশ থেকে সংগৃহীত অ্যাম্ফিপড প্রজাতির প্রাণীদের পরীক্ষা করেন, তখন তাদের পেশিতে এই তেজস্ক্রিয় পদার্থের উপস্থিতি ধরা পড়ে। মৃত প্লাঙ্কটন ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর মৃতদেহ এবং তাদের মলের মাধ্যমে এই তেজস্ক্রিয়তা ধীরে ধীরে সমুদ্রের একেবারে তলদেশে পৌঁছেছে। এই প্রক্রিয়াটিকে ‘মেরিন স্নো’ বলা হয়, যেখানে উপর থেকে ছোট ছোট জৈব কণা ক্রমাগত নিচের দিকে পড়তে থাকে। এই আবিষ্কার প্রমাণ করে যে মানুষের কার্যকলাপের প্রভাব পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্গম ও গভীরতম স্থানেও পৌঁছে গেছে। আশ্চর্যের বিষয় হল, এই তেজস্ক্রিয় পরিবেশেও প্রাণীরা স্বাভাবিকভাবে বেঁচে আছে এবং প্রজনন করছে। বিজ্ঞানীরা এই প্রাণীদের ওপর তেজস্ক্রিয়তার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব বুঝতে আরও গবেষণা চালাচ্ছেন। এই ঘটনা আমাদের পরিবেশের ওপর মানুষের কর্মকাণ্ডের সুদূরপ্রসারী প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করে তোলে।

৮. পানির নিচের নীরব আগ্নেয়গিরি

মারিয়ানা ট্রেঞ্চের আশেপাশে অসংখ্য মাড আগ্নেয়গিরি রয়েছে, যেগুলো সাধারণ আগ্নেয়গিরির মতো লাভা নয়, বরং কাদা ও মিথেন গ্যাস নির্গত করে। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা এই আগ্নেয়গিরি থেকে নীল রঙের একধরনের আঠালো পদার্থ আবিষ্কার করেছেন, যার পিএইচ মাত্রা ১২-এর কাছাকাছি, যা কস্টিক সোডার সমতুল্য। এই ক্ষারীয় পদার্থ মানুষের ত্বকের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এবং এতে পড়লে তীব্র জ্বালা হয়। আশ্চর্যজনকভাবে এই বিষাক্ত কাদার ভেতর বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়ার জীবাশ্ম পাওয়া গেছে, যা প্রমাণ করে যে চরম বিষাক্ত পরিবেশেও প্রাণের অস্তিত্ব থাকতে পারে। এই আগ্নেয়গিরিগুলো থেকে নির্গত মিথেন গ্যাস বিশেষ ধরনের ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য হিসেবে কাজ করে। এই ব্যাকটেরিয়াগুলো আবার ছোট ছোট প্রাণীদের খাদ্য, এভাবেই একটি সম্পূর্ণ বাস্তুতন্ত্র গড়ে উঠেছে সূর্যের আলো ছাড়াই। এই আগ্নেয়গিরিগুলোর অগ্নুৎপাত সাধারণত খুব ধীরে হয় এবং তা শনাক্ত করা কঠিন। এগুলো থেকে নির্গত কাদা সমুদ্রতলে বিস্তৃত এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং স্তর তৈরি করে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই আগ্নেয়গিরিগুলো অধ্যয়ন করে পৃথিবীর আদিম পরিবেশ সম্পর্কে জানা সম্ভব হতে পারে।

৯. এখানে বয়ে চলে অদৃশ্য নদী

মারিয়ানা ট্রেঞ্চের গভীরে এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটে, যেখানে ঘন লবণাক্ত পানি দিয়ে তৈরি অদৃশ্য নদী বয়ে চলে। এই ঘটনাটিকে ‘ব্রাইন পুল’ বলা হয়, যেখানে অতি লবণাক্ত পানি সাধারণ সমুদ্রের পানির সাথে মিশে না গিয়ে আলাদা পুল বা হ্রদের আকারে থাকে। এই লবণাক্ত পানির ঘনত্ব এত বেশি যে এটি সমুদ্রতলে বসে যায় এবং তার ওপর দিয়ে ঢেউ খেলে যায়। এই পুলগুলোর পানিতে সাধারণ পানির চেয়ে এত বেশি লবণ থাকে যে এতে ডুবে যাওয়া কোনো প্রাণী সহজেই ভেসে উঠতে পারে না এবং তা মৃত অবস্থায় পড়ে থাকে। এই পুলগুলোকে অনেক সময় ‘কিলার পুল’ বলা হয়, কারণ যে মাছ বা প্রাণী ভুলবশত এই পুলে ঢুকে পড়ে তারা সঙ্গে সঙ্গে মারা যায়। এই পুলগুলোর চারপাশে সাধারণত বিভিন্ন ধরনের শঙ্খ ও ঝিনুকের খোলস জমা হয়, যা দেখতে অনেকটা মরুভূমির প্রান্তরের মতো। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই অতি লবণাক্ত পরিবেশ পৃথিবীর আদিম সমুদ্রের অবস্থা সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে। এই ব্রাইন পুলগুলোতে অক্সিজেনের পরিমাণ খুব কম, তাই সেখানে খুব কম প্রাণীই বাস করতে পারে। তবে কিছু বিশেষ ধরনের ব্যাকটেরিয়া এই লবণাক্ত ও অক্সিজেনহীন পরিবেশেও টিকে থাকতে সক্ষম হয়েছে।

১০. এখানে শুধু চারজন মানুষ পৌঁছাতে পেরেছেন

এপর্যন্ত মাত্র চারজন মানুষ সফলভাবে মারিয়ানা ট্রেঞ্চের একেবারে তলদেশে পৌঁছাতে পেরেছেন, অথচ চাঁদে পা রাখা মানুষের সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি। ১৯৬০ সালে প্রথম ডন ওয়ালশ ও জ্যাক পিকার্ড ‘ট্রিয়েস্টে’ নামক সাবমার্সিবলে করে সেখানে পৌঁছান এবং মাত্র ২০ মিনিট অবস্থান করেন। এরপর দীর্ঘ ৫২ বছর কেউ আর এই কৃতিত্ব অর্জন করতে পারেনি। ২০১২ সালে বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা জেমস ক্যামেরন ‘ডিপসি চ্যালেঞ্জার’ নামে একটি বিশেষ সাবমেরিন তৈরি করে এককভাবে সেখানে পৌঁছান এবং তিন ঘণ্টা অবস্থান করেন। সর্বশেষ ২০১৯ সালে অভিযাত্রী ভিক্টর ভেস্কোভো তার দল নিয়ে সেখানে পৌঁছান এবং গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ করেন। এই অভিযানগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কারণ সেখানে প্রচণ্ড চাপের কারণে সামান্য ত্রুটিই মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এই সাবমেরিনগুলো তৈরি করতে শত কোটি টাকা খরচ হয় এবং প্রতিটি অভিযানের জন্য দীর্ঘমেয়াদী প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়। ভবিষ্যতে আরও উন্নত প্রযুক্তি ও সাবমেরিন তৈরি করা গেলে হয়তো এই সংখ্যা কিছুটা বাড়বে, কিন্তু তা সহজ হবে না। মারিয়ানা ট্রেঞ্চ মারিয়ানা ট্রেঞ্চ মারিয়ানা ট্রেঞ্চ

আরও পড়ুন

ব্ল্যাকহোল কী এবং এটি কীভাবে সৃষ্টি হয়- জানুন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

শিক্ষণীয় ১০টি মজার মজার গল্প – যা আপনাকে সত্যিই অবাক করবে

বারমুডা ট্রায়াঙ্গল কী? অবস্থান, আয়তন, ইতিহাস ও অজানা ১০ রহস্য

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top